প্রেক্ষাপট


#

সারাদিন খাটুনির পর বাড়ি ফিরছি,  সিঁড়িতে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আলো জ্বালানোর কথাটুকু ও কারো মনে থাকে না।

“বাসন্তী –"বলে হাঁক পাড়ি, সঙ্গে সঙ্গে বুবকার চিল চিৎকার, “টিউবলাইট ভেঙে গেছে, চটি পড়ে এসো। “

কি সর্বনাশ! টিউব লাইট লাগাতে পারি না, মিস্ত্রি ডাকতে হবে। বাসন্তী কে জিগ্যেস করি, কখন ভাঙলো? ঝাঁট দিয়েছিস?

“হ্যাঁ, পরে শুনো সব, ভেতরে যাও। “ততক্ষণে বুবকা হাত ধরে ঝুলতে শুরু করেছে, বুঝলাম অন্যায় কাজ করে অনুতাপ হয়েছে। বললাম, “ঠিক আছে, ঘরে যাও, আসছি”, চা টা নিয়ে যুত করে বসে বললাম, “বলে ফেলো, আজকের কীর্তি।“

" দাদু টিউবলাইট ভেঙে ফেলেছে"। 

“-কি !!” চা চলকে গায়ে পড়ে আর কি! এর আগেও অবশ্য নিজের দোষ  ঢাকতে দাদুর ওপর অনেক কীর্তি চাপানো আছে। যেমন, "দাদু টেডিবিয়ার হারিয়ে ফেলেছে"। আসলে বুবকার মার খেয়ে ওটার ফোম বেরিয়ে গেছিল, তাই ওটা সরিয়ে রাখা হয়েছিল। আবার, "দাদু নতুন গাড়িটা ভেঙে ফেলেছে"। আসলে নতুন গাড়ি বুবকার হাতে পড়ে "এক্সিডেন্ট" করেছে, সেই গাড়ি জোড়া দেবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় গাড়ি ভাঙার পূর্ণ দায়িত্ব দাদুর ঘাড়ে বর্তেছে। এই দুবারই আমি দাদুর ভুল মেনে নিয়েছি। না নিয়ে উপায় ছিল না। কিন্তু শান্ত নিরীহ দাদু বল ছুঁড়ে টিউবলাইট ভেঙে ফেলেছে, এটা মানা নেহাতই অসম্ভব। তাই বললাম, “বুবকা, নিজে দোষ করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করবে না, নিজের ভুল স্বীকার করার সাহস টুকু থাকা দরকার।“ 

“-আমি কেন দাদুর ঘাড়ে দোষ চাপাবো, দাদুই তো বলল” । 

“কি বলল?”

“বলল যে, দাদু যেমন বল করেছে, সেই বল মারতে গেলে ওইভাবেই ব্যাট ঘোরাতে হতো। একে বলে কপিবুক ক্রিকেট”। 

-আচ্ছা, নবলব্ধ জ্ঞানে বিশেষ উৎসাহিত হই।

“সেই বল যদি টিউবলাইটে লাগে তাতে আমার কি দোষ? দাদু বলেছে আর ওরকম বল দেবে না”। 

দাদুর আদরে বেড়ে ওঠা বেয়াড়া বাচ্চাকে শাসন করার চেষ্টা করা বৃথা। ফলে দাদুর ওপরে চোটপাট করি, “সব ব্যাপারে ওকে সাপোর্ট করাটা ঠিক নয়, বাবা।“

“জানিস তো, পার্সপেক্টিভ বদলে দিতে পারলে জীবনে কোন জটিলতা থাকে না। নাটকে দেখিস না, একটা মঞ্চে শুধু প্রেক্ষাপট বদলে দিলে একটা ঘর বাজার হয়ে যায়, একটা বাজার নৌকা হয়ে যায়। এটা এক ধরনের ম্যাজিক বলতে পারিস।“

 সেতো বুঝলাম,  কিন্তু জীবনের প্রেক্ষাপট বদলে দেবার ম্যাজিক শেখা টা কি সহজ কাজ!